পুরুষদের জন্যও আসছে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি

পুরুষদের জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি তৈরিতে সাফল্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছেন বিজ্ঞানীরা। নিরাপদ যৌন-জীবনের জন্য পুরুষদের কনডম ব্যবহারের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা থাকলেও অনেক পুরুষই এতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। এমন পুরুষদের জন্য একটা বিকল্প বের করার উপায় খোঁজা হচ্ছিল অনেকদিন থেকেই। সেই বিকল্প তৈরিতে সাফল্যের মুখ দেখতে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। ব্রিটিশ গণমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, নারীদের জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি উদ্ভাবনের ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও পুরুষদের জন্য এখনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া-বিহীন কোনো বড়ি আবিষ্কার করতে পারেনি গবেষকরা। তবে এ ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ‘আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি’র বাৎসরিক সম্মেলনে এ তথ্য জানান মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। এর আগেও পুরুষদের জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি তৈরি করেছিলেন তারা। তবে বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকায় সেটা ব্যবহারযোগ্য হয়নি।
এবার আগেরটিতেই সামান্য পরিবর্তন এনে পুরুষদের জন্য কার্যকর, দীর্ঘস্থায়ী এবং উল্লেখযোগ্য কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি তৈরি করতে যাচ্ছেন তারা। এর সেবন পদ্ধতি ব্যাখ্যা করে গবেষণা দলের প্রধান গান্ডা জর্জ বলেন, ‘এটা হবে দ্রবণশীল। তাই বড়িটি গিলে খাওয়া যাবে। এটা খুব দ্রুত কাজ শুরু করবে এবং উদ্দীপনা হ্রাস করবে না। দশকের পর দশক ধরে এটা সেবন করলেও কোনো ক্ষতি হবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘সেবনকারীদের কেউ যদি পরবর্তীতে সন্তান গ্রহণ করতে চায় তবে তাও সম্ভব হবে। শুক্রাণুর ওপরে এর কোনো প্রভাব থাকবে না।’ গত বছরের একটি গবেষণার ওপর ভিত্তি করে চলতি গবেষণাটি চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
গত বছরের গবেষণায় বলা হয়েছিল, পুরুষের শুক্রাণুর উর্বরতা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। শুক্রাণুর উর্বরতা না থাকলে ডিম্বাণুর নিষিক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে না। ‘এইচ টু-গামেনডাজোল’ নিয়ে গবেষণায় শুক্রাণুর পূর্ণ বিকাশ রহিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে টাশের গবেষণা দল।
সাধারণভাবে শুক্রাশয়ের মধ্যেই শুক্রাণুগুলোর একটা লেজ ও মাথা গজাতে থাকে। কিন্তু এই উপাদান দিয়ে তৈরি বড়ি খেলে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত শুক্রাণু পূর্ণ মাত্রায় বিকশিত হতে পারবে না। ফলে যৌনমিলন সত্ত্বেও নারীর গর্ভধারণের ঝুঁকি থাকবে না। ২০০১ সাল থেকেই এই প্রকল্পে কাজ করছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *